সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পর শিক্ষা-বাজেটের প্রতি সরকারের গতানুগতিক মনোভাব দেখে হতাশ হয়েছিলাম, কিন্তু খুব বেশি অবাক হইনি। কারণ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ সংসদে গৃহীত হওয়ার পরের দু-তিন বছরের শিক্ষা-বাজেট শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। প্রথমে ভেবেছিলাম, ঠিক কোন পদ্ধতিতে বর্তমান শিক্ষানীতির বিপুল ব্যয়ভার বাস্তবায়ন করা হবে তা সম্ভবত সরকার ঠিক করতে পারছে না এবং সে […]
প্রশ্নপত্র ফাঁস: কোন নৈতিকতা ধারণ করছি আমরা
১. বাংলাদেশের সর্বশেষ শিক্ষাক্রমে (curriculum) ‘ধর্মশিক্ষা’ বিষয়টি পরিবর্তিত হয়ে ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ হওয়ার পর একজন ধর্ম-শিক্ষক জানতে চেয়েছিলেন, “এই পরিবর্তন কতটুকু প্রয়োজনীয় ছিল? আমরা কি তাহলে এতদিন ধর্মশিক্ষার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষা দিইনি?” উত্তরে বলেছিলাম, “শিক্ষাক্রমের এ পরিবর্তন এসেছে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর নির্দেশনা অনুসারে। সেখানে ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ অধ্যায়ে ধর্মের সঙ্গে নৈতিক শিক্ষাকে যুক্ত […]
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: শিক্ষাব্যবস্থার দায় ও দায়িত্ব
ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব নিয়ে কেউ জন্মায় না। মানুষ এগুলো শেখে পরিবার-সমাজ-বিদ্যালয় থেকেই। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষমতা আছে এ জায়গাটিতে কাজ করার। কিছুকাল আগেও আমাদের পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচারের নানা বিষয় যেভাবে ছিল, তা অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ছিল না। পরিবর্তিত পাঠ্যপুস্তকে সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে যাতে আদিবাসীদের প্রতি ভুল ধারণার জন্ম না দেয়। অপর ধর্ম এবং অপর ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জন্মানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে কিছু বক্তব্য বা সুনির্দিষ্ট অধ্যায় রাখা যেতে পারে। শিক্ষকরা যাতে দরদ সহকারে তাদের শিক্ষার্থীদের অসাম্প্রদায়িক হিসেবে গড়ে তুলেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঞ্চার ঘটানো যেতে পারে। এখন ধর্ম বিষয়ের সঙ্গে নৈতিকতাকে যুক্ত করা হয়েছে। অসাম্প্রদায়িকভাবে শিশুদের গড়ে তোলা তো নৈতিক শিক্ষারই একটি অংশ।
যারা একইসঙ্গে মেধাবী ও অ-মেধাবী
এ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম সে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীটি জানিয়েছিল, মেডিকেল, বুয়েটসহ প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিট বা অনুষদের পরীক্ষার ফরম সে তুলেছে। তবে ওই আলাপচারিতার সময়ে, শেষ পর্যন্ত কয়টিতে সে পরীক্ষা দিতে পারবে তা নিয়ে সন্দিহান ছিল। সন্দেহের কারণ তখনকার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং […]
জ্ঞানব্যবসা
আজকে যে উন্মুক্ত জ্ঞানের আন্দোলন, সীমিত পরিসরে হলেও, গড়ে উঠছে বিশ্বব্যাপী, তার সঙ্গে একাত্ম হতে হবে আমাদের শিক্ষার্থীদেরও। জোরালোভাবে দাবি আদায়ের পথগুলোতে অবস্থান নিতে হবে জ্ঞানব্যবসার বিরুদ্ধে। জ্ঞান সবার মধ্যে প্রবাহিত করার বিষয়, একে কুক্ষিগত করার কোনো সুযোগ নেই, এবং সেই সুযোগ তৈরি করাও যাবে না। এই বিষয়টুকু সামনে রেখে আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের উন্মুক্ত জ্ঞান অর্জনের নিশ্চয়তার নিয়ামক হবেন, এইটুকু আশা করতে চাই।
বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের শিক্ষা : সমস্যা ও উত্তরণের উপায়
* লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল নারী ও প্রগতি জার্নাল-এর বর্ষ ৭, যুগ্মসংখ্যা ১৩-১৪, জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০১১ ইস্যুতে। পৃ. ৯-১৬।

